উনিশ শতকের বাংলা সাময়িক পত্র ও সমাজচেতনা

উনিশ শতকের বাংলা সাময়িক পত্র ও সমাজচেতনা

উনিশ শতকের বাংলার সমাজ-সংস্কার ও জাতীয় চেতনা গঠনে সাময়িক পত্রের অবদান অনস্বীকার্য। মুদ্রণযন্ত্রের আবির্ভাব ও প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে যখন বাংলা গদ্য নিজের পায়ে দাঁড়াতে শুরু করল, তখন সাময়িক পত্রিকাগুলি বাঙালির মননশীলতার বাহন হয়ে উঠল।

১৮১৮ সালে শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত ‘দিকদর্শন’ এবং ‘সমাচার দর্পণ’ ছিল প্রথম যুগের পথপ্রদর্শক। এগুলিতে বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সাধারণ খবরের পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে রাজা রামমোহন রায়ের ‘সংবাদ কৌমুদী’ এবং ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা সাংবাদিকতায় এক নতুন যুগের সূচনা করে।

"সাময়িক পত্র কেবল খবরের কাগজ নয়, তা সমাজের দর্পণ এবং ভবিষ্যৎ গড়ার হাতিয়ার।" - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ‘বঙ্গদর্শন’ প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। ‘বঙ্গদর্শন’ কেবল উচ্চমানের সাহিত্যই প্রকাশ করেনি, বরং ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব ও বিজ্ঞান বিষয়ক জটিল আলোচনাকে বাঙালি পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করে তুলেছিল।

এই গবেষণামূলক আলোচনায় দেখা যায় যে, উনিশ শতকের সাময়িক পত্রগুলি সতীদাহ প্রথা রদ, বিধবাবিবাহ প্রচলন এবং নারীশিক্ষার স্বপক্ষে জনমত তৈরিতে অগ্রणी ভূমিকা পালন করেছিল। বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণির বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক বিকাশের মূলে ছিল এই সমস্ত লিখনী ও পত্রিকার অবিরাম চর্চা।

মন্তব্যসমূহ (1)

অনির্বাণ সেন ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
দিকদর্শন ও সংবাদ কৌমুদী পত্রিকার তৎকালীন সমাজ সংস্কারে ভূমিকাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন আছে। সুন্দর কাজের জন্য সাধুবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুন